কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপীত হয়-১৯৫৬ সালে। কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাস মোটামুটি দীর্ঘ। ১৯৬৫ সালে সরকারি বি,এম কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়ের নেতৃত্বে কতিপয় অধ্যাপক ও এলাকার গন্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ কলেজপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যতটুক জানা যায় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, অধ্যাপক বাকের আলী মিয়া, প্রদর্শক আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক কাজী গোলাম কাদের, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম প্রমুখ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তীতে ০১/০১/১৯৬৫ সনে কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুনিয়র পর্যায় খোলা হয়। তখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিঃ হরেন্দ্রনাথ দাস, আই.এ, পি.টি.আই। ১১/০৬/৬৭ খ্রিঃ তারিখ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন জনাব আবদুল খালেক, বি.এ। তালভিটা, কলেজ রোড, বরিশাল। তিনি পূর্নাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু করেন এবং ০১/০১/১৯৭২ খ্রিঃ তারিখ থেকে প্রথম স্বীকৃতি / অনুমোদন পায় যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বারক নং-বি অ-১/৭০৮(১) তাং- ২৭/১২/৭২ ইং। ১৯৭৩ সনে এই বিদ্যালয় থেকে প্রথম এস,এস,সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে শিক্ষার্থীরা। তখন শুধু মানবিক বিভাগ চালু ছিল। ০১/০১/১৯৭৩ হতে বিজ্ঞান বিভাগ খোলার অনুমোতি লাভ করে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে, স্বারক নং-বি অ-১/১৭৯২(৪) তাং- ২২/১১/৭৫ ইং। ০১/০১/৮০ থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে বানিজ্য বিভাগ ও কৃষি শিক্ষা বিষয় খোলার অনুমোতি প্রাপ্ত হয়, যার স্বারক নং যথাক্রমে-বি অ ১/৩৪৯/৩০৩ এবং-বি অ-১/৩৪৯/৩০৪ তাং- ০৪/০৩/১৯৮২ ইং। ২৬/০৬/১৯৭৬ খ্রিঃ তারিখ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কলেজ রো নিবাসী মিঃ বিনয় ভূষন দাস, এম.এ বি.এড এবং তার কার্যকাল ১২/০৮/১৯৮৯ ইং তারিখ পর্যন্ত। অতঃপর ১৩/০৮/১৯৮৯ ইং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার তোফায়েল আহমেদ বি.এসসি, বি.এড। তখন বিদ্যালয়ের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সব ক্লাশ মিলে ৭০/৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। ১৯৮৯ সনের ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষায় ৭ম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়েছিল ০৯ (নয়) জন ছাত্র-ছাত্রী। মাত্র ৩৫০০/- টাকা রিজার্ভ ফান্ড এবং ৩৪০০/- টাকা মাসিক বেতন (সকল শিক্ষক- কর্মচারী) যা ২২ মাসের বকেয়া ছিল। ০১/০১/১৯৯০ খ্রিঃ তারিখ থেকে জনাব তোফায়েল আহমেদ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। তিনি ম্যানেজিং কমিটি এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিশেষ করে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ ইউনুস আলী খান, অধ্যাপক বাকের আলী মিয়া, আব্দুল মান্নান মিয়া, খান আলতাফ হোসেন ভুলু। এ্যাড, মজিবর রহমান নান্টু, জলকাদের মোল্লার সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের নামে ২১.২ শতাংশ জমি দলিল করতে সক্ষম হন অবকাঠামো উন্নয়নে উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সাবেক সফল মেয়র এ্যাড, শওকত হোসেন হিরণ, ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি জনাব. মনিবুর রহমান সহ ম্যানেজিং কমিটির সকল সদস্য বৃন্দ, এলাকার গন্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ বলিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা নয়শতাধিক। জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রায় শত ভাগ পাশ। এবং সংখ্যাগত ও গুনগত মান যথেষ্ঠ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সনের এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয়টি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ২০ তম স্থান অধিকার করেছে। এক জন ট্যালেন্ট পুল সহ ৮ জন বৃত্তি পেয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বছর ও জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন শিক্ষক- শিক্ষকা বৃন্দ। অতিরিক্ত ক্লাশ নেয়া ফলাফল ভাল করার পিছনে অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর। এই অতিরিক্ত ক্লাশ চালুর পিছনে ম্যানেজিং কমিটির বলিষ্ট ভূমিকা ছিল এবং এখনও আছে। বিদ্যালয়ে ১৯৯০ সন থেকে প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (৭৫ আইটেম) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির (সকল ধরনের গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, চিত্রাংকন, রচনা লিখন ইত্যাতি) ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি লাভ করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক, উপজেলা, জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে ও জাতীয় দিবস গুলোতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা অনেক কৃতিত্ত প্রদর্শন করছে ও পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েছে। স্কাউটস ও গার্লস ইন স্কাউটস বিদ্যমান আছেঅনেক বছর থেকে। এক জন ছেলে ও একজন মেয়ে প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড পেয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষন / ওয়ার্কশপ বা কর্মসূচিতে তারা সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করে আসছে। এভাবে বিদ্যালয়টি দিন দিন ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে এগিয়ে চলছে।
© 2026, Designed & Developed by Sheba Digital Ltd.